সংঘাতের শঙ্কা নিয়ে ভোটযুদ্ধ আজ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন


নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন আজ। তাই সবার দৃষ্টি জেলা শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। শেষ মুহূর্তে এই নির্বাচন পরিণত হয়েছে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘মোবাইল ফোন’ ও ‘নারিকেল গাছ’ প্রতীকের ত্রিমুখী ভোটের লড়াইয়ে। কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলের সমর্থনই বড় শক্তি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় এবার পুরো ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এবারেই প্রথম কাগজে সীলের পরিবর্তে বোতাম টিপেই নির্বাচিত করা হবে পৌর মেয়র। তবে সম্ভাব্য জয়-পরাজয় নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ ও বিশ্লেষণ। মেয়র পদে কারা জিতবেন ‘নৌকা’, ‘মোবাইল ফোন’ নাকি ‘নারিকেল গাছ’- জানা যাবে আজ রাতেই। এর বাইরে আরও একজন প্রার্থী ‘জগ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে তিনি সেভাবে আলোচনায় নেই।

ভোটের লড়াইয়ে মেয়র পদে জয়ের আশাবাদী চার প্রার্থীই। ‘নৌকা’ প্রতীকে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মো. মোখলেসুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটনের প্রতীক ‘মোবাইল ফোন’, বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলামের প্রতীক ‘নারিকেল গাছ’, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের প্রতীক ‘জগ’। মেয়র পদ ছাড়াও কাউন্সিলর পদে প্রধান তিন (আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত) রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থীরাও আজকের ভোটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ।

এদিকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগের শুরু থেকেই প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, নির্বাচনী কাজে বাধা প্রদানসহ নানান অভিযোগ করে আসছেন। ভোটযুদ্ধের দিনও সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ভোটগ্রহণের দিনে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররাও। এই নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা জাতীয় নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে গেছে। কারণ ভোটের আগ মুহূর্তেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপর হামলা, মামলা, প্রচার মাইক ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সংঘাত-সহিংসতার কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠান এবং ভোটের দিন নির্বাচনী পরিবেশ যাতে সহিংস হয়ে না ওঠে সে জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ-বিজিবি-র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থকরা বলছেন, আমরা জানতে পেরেছি পাশের উপজেলা শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক বহিরাগতকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনা হয়েছে ভোটের পরিবেশ বিনষ্টের জন্য। তারা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। বহিরাগতদের শহর-ছাড়া না করলে যে কোন পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, নৌকার বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। দৃশ্যমান উন্নয়নে পুরো দেশের চিত্র পাল্টে গেছে। সরকার শুধু পরিকল্পনা করেনি, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলেছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগের মেয়র না থাকায় উন্নয়নবঞ্চিত হয়েছে পৌরবাসি। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ উন্নয়নের জন্য নৌকা প্রতীকেই ভোট দেবেন।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাও জয়ের বিষয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সামিউল হক লিটন বলেছেন, নির্বাচনে জোর-জুলুম আর কারচুপি না হলে তার বিজয় সুনিশ্চিত। ভোটাররা শুধু শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। তবে নির্বাচন যেভাবেই হোক, আমরা মাঠ ছেড়ে যাব না। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, যদি ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবে সম্মানজনক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেছেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও পক্ষপাতহীন আচরণের মধ্যদিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কাজ করছি। আশ্বস্ত করার মতো নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর আবার পরীক্ষা করা হচ্ছে, কোনো সমস্যা আছে কি-না। সবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। যাতে এ নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।

উল্লেখ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ৭৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭১ হাজার ৪৩২ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৬৫ জন।