দুই প্রার্থীর ভোট বর্জন, নৌকার জয়


চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন


নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মোখলেসুর রহমান। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৬১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন পেয়েছেন ২১ হাজার ৬১৪ ভোট। নৌকার কর্মী-সমর্থকরা নবনির্মাচিত মেয়রকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অবশ্য দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক নৌকায় ভোট নেয়ার অভিযোগে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সামিউল হক লিটন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর আগে একই অভিযোগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলামও ভোট বন্ধের দাবি করেন।

দুপুরে শহরের রামকৃষ্টপুরের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে করে সামিউল হক লিটন বলেন, আমি সকাল থেকে কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। ভোট কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। সেখানে নৌকার লোকজন কেন্দ্র দখল করে রেখেছে। ভোটার শনাক্তের পর নৌকার কর্মীরা নৌকায় ভোট দিয়ে নিচ্ছে। পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে এসব দৃশ্য দেখছে।

লিটন আরও বলেন, ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে নৌকার কর্মীদের দ্বারা হেনস্থার স্বীকার হয়েছি। তবুও পুলিশ প্রশাসন আমাকে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেনি। অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবগত করে কোন প্রতিকার পাইনি। আমি জীবনেও এতো নোংরা নির্বাচন দেখিনি। তাই আমি এই নির্বাচন বর্জন করছি।

সকালের সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, পুলিশি সহায়তায় সব কেন্দ্র দখলে নিয়েছে বহিরাগতরা। আমি নিজে কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে টেকনিশিয়ান, অডিটর কার্ডধারি বহিরাগত কয়েকজনকে শনাক্ত করে প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বললেও তারা কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। এটি প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে নির্বাচন বন্ধের দাবি করেন নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাঠানপাড়ার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাংসদ ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে কাউকে টেকনিশিয়ান, কাউকে অপারেটর, কাউকে অডিটর নাম দিয়ে হলুদ গেঞ্জি পরে নৌকা প্রতীকের লোকজন কেন্দ্র দখলে নিয়েছে। কাউন্সিলরের ভোট অনেকে দিতে পারলেও মেয়রের ভোট দিতে পারছেন না ভোটাররা। অনেক জায়গায় ভোটারদের মেয়রের ভোট দিতে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে অনেক বাগবিতণ্ডা হয়েছে।

এ বিষয়গুলা জানার পর রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে টেলিফোনে অবহিত করেছি। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারকে ১০ বার ফোন দিলেও তিনি আমার কলটি রিসিভ করেননি। আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিষয়টি জানিয়েছি। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়গুলো জানিয়েছি। এখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলার শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার বহিরাগত ৩ থেকে ৪ হাজার ক্যাডারবাহিনী নিয়ে এসে তার পার্ক ও নামোশংকরবাটি কলেজে রেখেছেন। তারা সকাল থেকে তাণ্ডব চালিয়ে পৌরসভা নির্বাচনের সবগুলো কেন্দ্র দখল করে রেখেছে।

সাংসদ হারুন বলেন, সারা দেশেই নির্বাচনের নামে সহিংসতা ও প্রহসন হচ্ছে। জানি না দেশ কে চালাচ্ছে। আমি সংসদেও বলেছি আমার যে নির্বাচনী এলাকা অন্ততপক্ষে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, মানুষ যেন তাদের ভোট দিতে পারে। হতবাক হয়েছি গত ৫০ বছরেও এরকম নির্বাচনী পরিবেশ আমি দেখিনি। এটার সঙ্গে যারা জড়িত বিশেষ করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে টাকার বিনিময়ে জিম্মি হয়ে গেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। আমি অনুরোধ করবো বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হওয়া দরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশন থেকেও তদন্ত হওয়া দরকার। যেহেতু নির্বাচনের নামে একটি প্রহসন হচ্ছে, সেহেতু অবিলম্বে এ নির্বাচন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।